বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
সম্প্রতি চালানো এক জনমত জরিপে চিকিৎসকদের রাজনীতির বিপক্ষে মত দিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৫ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীরা বলছে, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ বা স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতি তাদের পছন্দ না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা স্বাস্থ্য খাতবিষয়ক জনমত জরিপে বলছে, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, নার্স বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়। গত সপ্তাহে বিবিএসের পক্ষ থেকে জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন সংস্কার কমিশনের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিবিএস ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের ৮ হাজার ২৫৬টি পরিবারের ওপর জরিপ করেছে। জরিপে প্রতিটি পরিবার থেকে ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সী ন্যূনতম একজন নারী বা পুরুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় (বিএমডিসি, বিএমআরসি) দলীয় রাজনীতির প্রবল প্রভাব দৃশ্যমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ্ঞান, পাণ্ডিত্য, দক্ষতা বা যোগ্যতার চেয়ে নিয়োগ বা পদোন্নতিতে বা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে দলীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ১৫ বছরের শাসনামলে।
আগস্টে সরকার পরিবর্তনের আগে স্বাস্থ্য খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ)। স্বাচিপের সংশ্লিষ্টদের দেয়া হতো পদোন্নতি বা গুরুত্বপূর্ণ পদ। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ১৫ বছরের শাসনামলে অনেক যোগ্য চিকিৎসক ও শিক্ষক যথাস্থানে বসতে পারেননি বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জামায়াত-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সদস্য হওয়ার কারণে।
কী বলছে জরিপের ফলাফল?
জরিপকারীরা মানুষের কাছে চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজ কর্মস্থলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। জরিপ ফলাফলে দেখা গেছে, ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা কর্মস্থলে চিকিৎসকসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের রাজনীতির বিপক্ষে। রাজনীতির পক্ষে মত দিয়েছেন ২১ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। এ বিষয়ে কোনো কিছু জানেন না এমন উত্তর দিয়েছেন ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে এ ব্যাপারে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ মানুষ।
শহরে বসবাসরতদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের রাজনীতির বিপক্ষে মত দিয়েছেন। শহরে বসবাসরতদের ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের রাজনীতি চান না। গ্রামে তা ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ। রাজনীতির বিপক্ষে এই মনোভাব নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রায় সমান। বয়সের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা তুলনামূলকভাবে বেশি রাজনীতির বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক বা অন্য স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের রাজনীতির বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন বরিশালের ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। এই হার সবচেয়ে কম রাজশাহী বিভাগে – ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ। যাঁরা কখনো স্কুলে যাননি, যাঁরা অল্প শিক্ষিত অথবা যাঁরা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী—সব ধরনের মানুষই রাজনীতির বিপক্ষে।
একইভাবে মতামত জানতে কৃষিকাজ, ব্যবসা, সরকারি চাকরিজীবী, বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, বেকার, অবসরপ্রাপ্ত, গৃহিণীসহ অনেক পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জরিপকারীরা।
সব পেশার মানুষই কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজনীতির বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের ৮৫ শতাংশ বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁরা চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের রাজনীতির বিপক্ষে। অন্যদিকে এই হার সবচেয়ে কম বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে। তাঁদের ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ চিকিৎসকদের রাজনীতির বিপক্ষে।
প্ল্যাটফর্ম/এমইউএএস